আমাদের নাসিরনগর

আমাদের মানুষ

নাসিরনগরের কৃতী ব্যক্তিত্ব

নাসিরনগরের ১৪ জন কৃতী ব্যক্তিত্বের পরিচিতি এখানে সংরক্ষিত আছে। আপনার এলাকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তথ্য জানা থাকলে পাঠান। জীবিত ব্যক্তির তথ্য প্রকাশের আগে তাঁর অনুমতি নেওয়া হয়।

রাজনীতিবিদ (৫)

রাজনীতিবিদ

নবাব স্যার সৈয়দ শামসুল হুদা

১৮৬২–১৯২২, গোকর্ণ, গোকর্ণ ইউনিয়ন

ব্রিটিশ ভারতের নামকরা মুসলিম নেতা, আইনজ্ঞ আর শিক্ষানুরাগী মানুষ। বঙ্গীয় আইন পরিষদের প্রথম ভারতীয় মুসলিম সভাপতি ছিলেন তিনি।

  • ১৮৬২ সালে গোকর্ণ গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা সৈয়দ রিয়াজতউল্লাহ ছিলেন আরবি ও ফারসি ভাষার পণ্ডিত। পড়াশোনা হুগলি মাদ্রাসা আর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। এম.এ. ও বি.এল. পাস করেন।
  • আইনে তাঁর দখল ছিল গভীর। তাই ১৯০২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে 'টেগোর প্রফেসর অব ল' পদ দেয়। তিনি 'Principles of Crimes in British India' নামে ধারাবাহিক বক্তৃতাও দেন।
  • ১৯০৮ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম আইন পরিষদের সদস্য হন, ১৯০৯ সালে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের। ১৯১০-এর দশকের শুরুতে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। সালটা উইকিপিডিয়ায় ১৯১০, উপজেলা পোর্টালে ১৯১২। ১৯১২–১৭ সালে ছিলেন বাংলার গভর্নরের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য।
  • ১৯১৭–২১ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। ১৯২১ সালে হন বঙ্গীয় আইন পরিষদের প্রথম ভারতীয় (মুসলিম) সভাপতি। 'নবাব' উপাধি পান ১৯১৩ সালে, আর কে.সি.আই.ই. সম্মাননা ১৯১৬ সালে।
  • নারীশিক্ষা আর মুসলমানদের শিক্ষার প্রসারে অবদান রেখেছেন। ১৯২২ সালের ৭ অক্টোবর কলকাতায় মারা যান।

রাজনীতিবিদ

মোহাম্মদ ছায়েদুল হক

পূর্বভাগ ইউনিয়ন

আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। সপ্তম থেকে দশম জাতীয় সংসদের সদস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীও ছিলেন।

রাজনীতিবিদ

ব্যারিস্টার আবদুর রসুল

১৮৭২–১৯১৭, গুনিয়াউক, গুনিয়াউক ইউনিয়ন

প্রথম বাঙালি ব্যারিস্টার (বি.সি.এল.), পেশায় আইনজীবী। ব্রিটিশ ভারতের নামকরা বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন, সাপ্তাহিক 'The Mussalman' পত্রিকাও তাঁর হাতে গড়া।

  • গুনিয়াউক গ্রামে তাঁর জন্ম, ১৮৭২ সালে। বাবা গোলাম রসুল ছিলেন তখনকার ত্রিপুরা জেলার জমিদার।
  • ১৮৮৮ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করেন। কিছুদিন ঢাকা কলেজে পড়ে ১৮৮৯ সালে বিলেত যান। সেখানে পড়েছেন লন্ডনের কিংস কলেজে (১৮৯২), অক্সফোর্ড থেকে বি.এ. (১৮৯৬) ও এম.এ. (১৮৯৮) করেছেন। ১৮৯৮ সালে মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন, সঙ্গে বি.সি.এল. ডিগ্রি। বাঙালিদের মধ্যে এই ডিগ্রি প্রথম তিনিই পান।
  • দেশে ফিরে কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি শুরু করেন। ১৯০৬ সালে বের করেন সাপ্তাহিক 'The Mussalman'। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগও পেয়েছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ১৯১৬ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।
  • নামী বক্তা, তুখোড় আইনজ্ঞ আর সৎ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯১৭ সালে মারা যান।

রাজনীতিবিদ

এস এম সাফি মাহমুদ

নাসিরনগর

রাজনীতিবিদ, ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন।

রাজনীতিবিদ

আশরাফ আলী ধরমণ্ডলী

জন্ম ১৯২০, ধরমণ্ডল ইউনিয়ন

আলেম ও ইসলামি রাজনীতিবিদ, ধরমণ্ডল ইউনিয়নের কৃতী সন্তান।

মুক্তিযোদ্ধা (২)

মুক্তিযোদ্ধা

মোজাম্মেল হক

গোকর্ণ ইউনিয়ন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা

সৈয়দ মুর্শেদ কামাল

চাপরতলা ইউনিয়ন

মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ, পঞ্চম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন।

শিক্ষাবিদ (১)

শিক্ষাবিদ

কৃষ্ণকিশোর বিদ্যাসাগর

বুড়িশ্বর ইউনিয়ন

বিখ্যাত হিন্দু পণ্ডিত। বুড়িশ্বর ইউনিয়নে তাঁর বাড়িটি এখনো দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।

ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব (১)

ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব

মাওলানা তাজুল ইসলাম (ফখরে বাঙ্গাল)

১৮৯৬–১৯৬৭, ভূবন, পূর্বভাগ ইউনিয়ন

লোকে তাঁকে চেনে 'ফখরে বাঙ্গাল' নামে। বিখ্যাত আলেম ও ইসলামি আইনের পণ্ডিত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আর নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ছিলেন।

  • জন্ম পূর্বভাগ ইউনিয়নের ভূবন গ্রামে, ১৮৯৬ সালে (১৩১৫ হিজরি)। বাবা ছিলেন মাওলানা আনওয়ারউদ্দিন।
  • শ্রীঘর মাদ্রাসা আর হবিগঞ্জের বাহুবল মাদ্রাসায় পড়ার পর উচ্চশিক্ষা নিতে ১৩৩৮ হিজরিতে যান ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে।
  • ১৩৪৫ হিজরিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে অধ্যক্ষ হন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই পদেই ছিলেন। কাদিয়ানি মতবাদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
  • তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, দৃঢ় মন আর অসাধারণ বক্তৃতার জন্য তাঁর নাম ছিল। মারা যান ১৯৬৭ সালের ৩ এপ্রিল (২০ চৈত্র ১৩৭৩)।

সরকারি কর্মকর্তা (৩)

সরকারি কর্মকর্তা

শফি উদ্দিন আহমেদ

হরিপুর ইউনিয়ন

রাষ্ট্রদূত ছিলেন, হরিপুর ইউনিয়নের কৃতী সন্তান।

সরকারি কর্মকর্তা

ইসরাত জাহান আহমেদ

হরিপুর ইউনিয়ন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক, হরিপুর ইউনিয়নের কৃতী সন্তান।

সরকারি কর্মকর্তা

গাজী-উর-রহমান

হরিপুর ইউনিয়ন

খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।

অন্যান্য (২)

অন্যান্য

জয়কুমার দেব রায়

বুড়িশ্বর ইউনিয়ন

বুড়িশ্বর এলাকার জমিদার। জয়কুমার জমিদার বাড়ি আজও তাঁর স্মৃতি ধরে রেখেছে।

কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তথ্য বাদ পড়েছে?

তাঁর নাম, পরিচয়, অবদান ও তথ্যসূত্র আমাদের জানাতে পারেন। তথ্য দিন